চার্টার্ড সুরক্ষা প্ল্যান: ৪৫ গুরুতর রোগে মিলবে বিভিন্ন সুবিধা
2 October 2026, 10:17 AM
views 3
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
•
2 October 2026, 10:17 AM
ক্যানসার, স্ট্রোক, প্রথম হার্ট অ্যাটাক, কিডনি বিকল, পারকিনসনসসহ ৪৫টি গুরুতর রোগের ঝুঁকির জন্য আলাদা আর্থিক সুবিধা রেখেছে চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ‘চার্টার্ড ক্রিটিক্যাল ইলনেস প্রোটেকশন প্ল্যান’। ‘চার্টার্ড সুরক্ষা’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনায় গুরুতর রোগের পাশাপাশি জীবনবীমার সুবিধাও রয়েছে।
পরিকল্পনাটিতে ৪৫টি রোগকে দুটি ভাগে রাখা হয়েছে—২৫টি মুখ্য ও ২০টি গৌণ গুরুতর রোগ। মুখ্য রোগের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হলে বীমা অংকের ২০ শতাংশ এককালীন দেওয়া হয়। এরপর বাকি বীমা অংক ওই রোগের চিকিৎসা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচের জন্য প্রযোজ্য। মুখ্য রোগের কভারেজ পুরোপুরি পরিশোধ হয়ে গেলে ওই সুবিধার পলিসি শেষ হয়ে যায়।
গৌণ গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে বীমা অংকের ৩০ শতাংশ এককালীন বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুবিধা হিসেবে দেওয়া হয়। এ সুবিধা পলিসির মেয়াদে একবার নেওয়া যায়। তবে গৌণ রোগের দাবি পরিশোধের পরও অন্য কভারেজের জন্য পলিসি চালু থাকে। পুরো বীমা অংক দাবি হিসেবে পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত পলিসি কার্যকর থাকে।
মুখ্য রোগের তালিকায় রয়েছে স্ট্রোক, ক্যানসার, প্রথম হার্ট অ্যাটাক, গুরুতর করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্টের ভাল্ভের অস্ত্রোপচার, কিডনি ও লিভার বিকল, প্রধান অঙ্গ প্রতিস্থাপন, গুরুতর পোড়া, অন্ধত্ব, আলঝেইমারস, পারকিনসনস, কোমা, পক্ষাঘাতসহ ২৫টি রোগ। গৌণ রোগের মধ্যে রয়েছে করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, পেসমেকার স্থাপন, নির্দিষ্ট প্রাথমিক ক্যানসার, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট, একটি কিডনি অপসারণ, ব্রেন সার্জারি, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসসহ ২০টি রোগ।
পলিসির মেয়াদ শেষে বিমাকৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে এবং তালিকাভুক্ত রোগে আক্রান্ত না হলে বীমা অংকের ১০০ শতাংশ মেয়াদপূর্তি সুবিধা হিসেবে পাওয়া যায়। পলিসি চলাকালে গুরুতর রোগের সুবিধা নেওয়া হলে পরিশোধিত বা পাওনা অর্থ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট বীমা অংক প্রযোজ্য হবে। মৃত্যু হলে স্বাভাবিক ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বীমা অংক এবং গুরুতর রোগের পর মৃত্যু হলে আগে পরিশোধিত বা পাওনা সুবিধা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ দেওয়া হবে।
তবে এই সুবিধা পেতে রয়েছে কিছু শর্ত। পলিসি কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ অপেক্ষাকাল ১৮০ দিন বা ছয় মাস। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সুবিধা পেতে বিমাকৃত ব্যক্তিকে ৩০ দিন জীবিত থাকতে হয়। গুরুতর রোগের দাবি করার পর, বীমা অংকের পুরোটা পরিশোধ না হলে পরবর্তী এক বছরের প্রিমিয়াম মওকুফের সুবিধাও রয়েছে।
এই পরিকল্পনায় ৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সে পলিসি নেওয়া যায়। মেয়াদ শেষে বয়স সর্বোচ্চ ৭০ বছর হতে হবে। বীমা অংক ১ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা এবং প্রিমিয়াম পরিশোধের মেয়াদ ৫ থেকে ২০ বছর। ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি বীমা অংকে প্রতি হাজারে ৩ টাকা রিবেট এবং বার্ষিক প্রিমিয়ামে ১৫ শতাংশ আয়কর রেয়াতের সুবিধার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বাংলাদেশে সন্তোষজনক চিকিৎসা পাওয়া না গেলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার সুবিধাও রাখা হয়েছে। তবে পলিসি কার্যকর হওয়ার আগের ২৪ মাসে শনাক্ত বা চিকিৎসাধীন পূর্ববিদ্যমান রোগ সাধারণত এই কভারেজের বাইরে।