জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে চরম চাপ
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৪৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত দুই মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৪৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরে ২৫২ টাকা এবং নভেম্বরে ২২৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৭ টাকা ৩৩ পয়সা বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, গ্যাস ও জ্বালানি শুধু কোনো পণ্য নয়; মানুষের দৈনন্দিন জীবন, রান্নাবান্না, যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনের অপরিহার্য উপাদান। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। এর সবচেয়ে বড় চাপ বহন করতে হয় নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষকে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কিংবা আমদানি ব্যয়ের চাপের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বারবার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, এলপিজির ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নির্ধারণ, অটোগ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো ঠেকাতে কার্যকর বাজার তদারকি।
এ ছাড়া নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ মূল্যসুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় ভর্তুকির ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে অনিয়ম, অপচয়, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জনদুর্ভোগের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। জনগণের মৌলিক চাহিদা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম মোস্তফা কামাল এবং মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া।