Friday, 6 November 2026 অ্যাডমিন লগইন
বাংলার জবান
অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

6 November 2026, 4:57 AM views 19
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
নিজস্ব প্রতিবেদক • 6 November 2026, 4:57 AM


বিশ্ববাজারে মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৬১৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।


তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বৈশ্বিক সার্বিক পোশাক আমদানির তুলনায় বাংলাদেশে রপ্তানি কমার হার কিছুটা কম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (ওটেক্সা) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


ওটেক্সার তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্ব থেকে মোট ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রয় বা আমদানির পরিমাণ ৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমলেও বৈশ্বিক গড় একক মূল্য ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানি ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। একই সঙ্গে পণ্য পাঠানোর পরিমাণ (ভলিউম) কমেছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সামগ্রিক বাজার সংকুচিত হলেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অংশ বা বাজার হিস্যা খুব একটা ওঠানামা করেনি। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অবদান ছিল ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা চলতি বছরের একই সময়ে সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশে।


মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশের দারুণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বরে আবার বড় ধাক্কা আসে; এ মাসে রপ্তানি ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে যায়।


মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আলোচ্য নয় মাসে ভিয়েতনাম (০.২৬%), কম্বোডিয়া (৬.৪২%) এবং ইন্দোনেশিয়া (২.৮১%) ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।


অন্যদিকে, বাংলাদেশের মতো অন্যান্য বড় সরবরাহকারী দেশগুলোর রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই সময়ে চীনের রপ্তানি কমেছে ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ, ভারতের ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং পাকিস্তানের কমেছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।


প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে পোশাকের গড় একক মূল্যের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৈশ্বিক গড় পোশাকের দাম ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বাড়লেও এশিয়ার সাতটি বড় সরবরাহকারী দেশের মধ্যে ৫টিরই গড় মূল্য কমেছে। এর মধ্যে চীনের কাপড়ের দাম সবচেয়ে বেশি (৭.৬৬%) কমেছে।


একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য কমেছে ০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম বিশ্ব গড়ের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিচে নেমে গেছে, যা গত বছর প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল।


বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটিতে মন্দার প্রভাব বাংলাদেশসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের ওপর পড়েছে। তবে বৈশ্বিক পতনের তুলনায় বাংলাদেশে কমার হার কিছুটা কম হওয়া এবং ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাজার হিস্যা ধরে রাখা ইতিবাচক দিক। তবে পণ্যের একক মূল্য বা ইউনিট প্রাইস ক্রমাগত কমে যাওয়া আগামী দিনে মোট রপ্তানি আয়ের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন বড় পর্যবেক্ষণের বিষয়।