Thursday, 5 November 2026 অ্যাডমিন লগইন
বাংলার জবান
সারাদেশ

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও পরীমনি

5 November 2026, 4:03 PM views 24
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও পরীমনি
নিজস্ব প্রতিবেদক • 5 November 2026, 4:03 PM


ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে গিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কাধাক্কিতে অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


জানা গেছে, বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। এরপর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে তিনি হাজির হন। পরে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর শুনানির পর আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীমনি আদালতে আসার পর সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তার ভিডিও ধারণ করছিলেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় লিফটে ওঠার মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজু তখন ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরীমনি উত্তেজিত হয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। যদিও পরবর্তীতে রাজু টান দিয়ে ফোনটি ফিরিয়ে নেন, তবে এ সময় পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীরা তার ভিডিও ধারণের ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু ঢোকার সময় নয়, জামিন পেয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং তিনি সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।


সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ওপরও চড়াও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিনেত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। তাদের ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন জাগো নিউজের আশিকুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের সিয়াম হোসেন এবং বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র মনি দাস। এর মধ্যে সুজন চন্দ্রের মাথা ফেটে রক্ত ঝরার মতো ঘটনাও ঘটেছে।


এদিকে ঘটনার পর পরীমনির পক্ষ থেকে সাংবাদিক রবিউল হোসাইন রাজুর বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অদ্ভুত এক অভিযোগ তোলা হয়। তবে রাজুর সহকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, রাজুর জন্মগতভাবে এক হাত অচল এবং ডান হাতের দুটি আঙুল নেই। স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট ওই হাত দিয়ে তিনি এক হাতে মোবাইল ধরে ভিডিও করছিলেন। এমন একজন মানুষের বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) এবং ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)। এমআরএ সভাপতি ফখরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকির শিকার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।


সাংবাদিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আদালতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় সংবাদকর্মীদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।