ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মেয়াদ। এরই মধ্যে গত এক বছরের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
ডাকসু নেতাদের
দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক সহায়তা না পেলেও বিভিন্ন
দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থার কাছ থেকে স্পন্সর সংগ্রহ করে তারা শিক্ষার্থীদের
জন্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া
বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৫ লাখ টাকা। সেই তুলনায় বিপুল পরিমাণ কাজ বাস্তবায়নকে তারা ডাকসুর
অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
২০২৫ সালের
৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম-এস এম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ইসলামী
ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। নির্বাচনের
এক বছর পূর্তি হয়েছে বুধবার। তবে নবনির্বাচিত নেতারা শপথ নেন ১৪ সেপ্টেম্বর।
ডাকসুর গত
এক বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি,
ক্যারিয়ার ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবাসিক হলের রিডিংরুমে
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের
জন্য জিমনেসিয়াম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরির মতো
উদ্যোগের কথা তুলে ধরছেন ডাকসু নেতারা।
তবে এসব কর্মকাণ্ডের
পাশাপাশি সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাদের
মতে, নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছে ৩৫ লাখ, ডাকসুর
খরচ ৩৫-৪০ কোটি টাকা
অবকাঠামো ও আবাসনে বড় প্রকল্প
ডাকসুর দেওয়া
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সীমিত আর্থিক সহযোগিতার মধ্যেও বিভিন্ন স্পন্সর
ও নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার অর্থসংস্থান করা হয়েছে। এসব
অর্থে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার উদ্যোগ ও কাজ বাস্তবায়নের দাবি করেছে ডাকসু।
অবকাঠামো
ও আবাসন খাতে ডাকসুর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার
বাজেটে পাঁচটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্যোগ। পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় ১ হাজার
৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার একটি নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক
হলে এসি স্থাপনের প্রায় ৬ কোটি টাকার কাজও চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের
কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি টাকা এবং
প্রত্নতাত্ত্বিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছে
ডাকসু। মেয়েদের জিমনেসিয়াম উন্নয়নে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। আবাসিক হলগুলোতে
কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় উদ্যোগ
পরিবহন খাতেও
কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাকসুর দাবি, শিক্ষার্থীদের পরিবহনসেবা উন্নয়নে প্রায় সাড়ে
৪ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা
চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য
খাতে মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো সংস্কারে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তুরস্কের
কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) সহযোগিতায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে
অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন সরবরাহ এবং সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৪০
লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচ
হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত
অন্যান্য কর্মসূচিতেও কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছে ডাকসু।
হলগুলোতে
১৮ বার ছারপোকা নিধন কার্যক্রম এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
পাশাপাশি ২৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার দাবিও করেছে ডাকসু।
শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও নারী শিক্ষার্থীদের
জন্য উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের
দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন বিনা মূল্যের কোর্স পরিচালনায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে
বলে ডাকসুর তথ্য। বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে ডাকসুর সম্পাদকরা প্রায়
১ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।
জব ফেয়ারের
মাধ্যমে চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি
হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় সহায়তার অংশ হিসেবে সাতটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত জার্নালে
শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
নারী শিক্ষার্থীদের
জন্য কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন এবং ছাত্রী হলগুলোতে
১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার
নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব দেওয়ার পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীনের সহযোগিতায়
১ হাজার ৫০০ আসনের ছাত্রী হল নির্মাণ এবং মেয়েদের জিমনেসিয়াম উন্নয়নের কাজও এসব উদ্যোগের
মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া ডাকসুর
দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় শেখ হাসিনার আজীবন সদস্যপদসংক্রান্ত একটি রেজুলেশন বাতিল
করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সাফল্যের পাশাপাশি অসন্তোষও
ডাকসুর কার্যক্রম
নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। কেউ কেউ গত এক বছরের বিভিন্ন উদ্যোগকে ইতিবাচক
হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতিই
পূরণ হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থী ইফতেখার হাসান তানভীর বলেন, বর্তমান ডাকসু এখন পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই দায়িত্ব
পালন করছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, দ্রুত হলের সিট দেওয়ার উদ্যোগ, মেডিকেল সেন্টারের
জরুরি বিভাগ নিচতলায় স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়ামের ব্যবস্থা
শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ।
তার মতে,
ছয়টি হলের জন্য প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আনার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহনসংক্রান্ত কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। চলমান প্রকল্পগুলো
সঠিকভাবে শেষ করা গেলে ডাকসুর প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা আরও বাড়বে।
তবে ব্যবসায়
শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে তুলনামূলক অসন্তোষ রয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী নায়েম ইসলাম সিয়ামের অভিযোগ, এফবিএসে ডাকসুর উল্লেখযোগ্য
কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ই-লাইব্রেরি সংস্কার করে চালুর কথা থাকলেও তা হয়নি। লিফট মেরামতের
সমস্যারও সমাধান হয়নি।
তার মতে,
পর্যাপ্ত জব ফেয়ার, বিজনেস কেস স্টাডি, বিজনেস কম্পিটিশন ও সেমিনারের আয়োজনও করা হয়নি।
পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের সংকট সমাধানের বিষয়টিও বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, এফবিএসের
তুলনায় কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ডাকসুর কার্যক্রম বেশি দৃশ্যমান।
সমাজকল্যাণ
বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিবহন ও কমনরুম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, আগে
বিভাগটির জন্য নির্দিষ্ট বাস ছিল না। শিক্ষার্থীদের দাবির পর ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক
আসিফ আব্দুল্লাহ একটি বাসের ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে অধিকাংশ সময় সেটি ব্যবহার করতে
পারছেন না শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রীদের
কমনরুম ডাকসুর ইশতেহারে থাকলেও গত তিন থেকে চার মাস ধরে সেটি বন্ধ রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা
জানিয়েছেন। কমনরুমের ওয়াশরুমও ব্যবহারের অনুপযোগী বলে অভিযোগ তাদের। এ ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউট
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।
সমাজকল্যাণ
বিভাগের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায়ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে
অসন্তোষ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের কথা থাকলেও সমস্যাটি পুরোপুরি কাটেনি
বলে তারা জানান।
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন
বিভিন্ন উন্নয়নমূলক
কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ডাকসুকে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের
একাংশের অভিযোগ, ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতা নিজেদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বাইরে থাকার
কথা বললেও পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারে অংশ নিয়েছেন।
কলা অনুষদের
শিক্ষার্থী মিরাজ মজুমদার বলেন, ডাকসু প্যানেল দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে কি না,
তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ১৯৭১-এর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিতর্কিত
বয়ান তৈরির মতো বিষয়ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভালোভাবে নেয়নি।
বাজেটের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছি
বৃহস্পতিবার
এক অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম গত এক বছরের কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি
বলেন, যে পরিমাণ বাজেট ডাকসু পেয়েছে, তার তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি কাজ করা হয়েছে।
সাদিক কায়েমের
ভাষ্য, শুরুতে ডাকসুকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া
হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি
টাকার কাজ করেছেন। স্পন্সর সংগ্রহের মাধ্যমেই মূলত এসব কাজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও
বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৮-৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। এর বাইরে
চীনা সরকারের সহযোগিতায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার
প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সর্বশেষ হেলথ ফেস্টের আর্থিক মূল্য প্রায় ১ কোটি
টাকার বেশি। সেখানে দেশের বিভিন্ন চিকিৎসক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। চিকিৎসকদের
অনেকে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা নিতে গেলে
তাদের ফলোআপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
এসব কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রের
দায়িত্ব
ডাকসুর বিভিন্ন
উদ্যোগের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সাদিক কায়েম বলেন, এসব কাজের অনেকগুলোই মূলত বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন, রাষ্ট্র ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো
যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ডাকসুকে এগিয়ে আসতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মেয়াদ শেষের
দিন প্রতিনিধি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো বছরের কর্মকাণ্ড, আয়-ব্যয় এবং ইশতেহার
বাস্তবায়নের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে বলেও জানান ডাকসু ভিপি।
তিনি বলেন,
সারা বছর কী কী কাজ করা হয়েছে, ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং
এর বাইরে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—সবকিছুর হিসাব তুলে ধরা হবে।
ডাকসুর জিএস
এস এম ফরহাদ বলেন, আগের বিভিন্ন ডাকসু নেতৃত্বের সময় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র
করে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। মধুর ক্যান্টিন নিয়ন্ত্রণ, কে কাকে সুযোগ দেবে
বা কে কোণঠাসা করবে—এ ধরনের প্রবণতা ছিল। পাশাপাশি কিছু
ম্যাগাজিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মধ্যেই অনেক সময় কার্যক্রম
সীমাবদ্ধ থাকত।
তার দাবি,
বর্তমান ডাকসুতে বাম, সাধারণ ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন
হলে ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের
মাধ্যমে ডাকসুকে কোনো দলের কার্যালয়ে পরিণত না করে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর একটি
ছাত্র সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন