ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতাচ্যুত মন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে নিজের একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন এবং জবাবদিহিতার বাইরে থেকে নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, পর্ষদে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিএসইর প্রায় দেড়শ কর্মকর্তাকে ছাঁটাইয়ের এক গভীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন মিনহাজ মান্নান ইমন। ইতোমধ্যে এর অংশ হিসেবে ২৮ জন কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক ছাঁটাই করা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সফটওয়্যার কেনার নামে একটি বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই পাঁয়তারা ব্যর্থ হয়।
তার বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
আর্থিক অনিয়ম ও সিসি ঘাটতি: তার মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউস ‘বিএলআই সিকিউরিটিজ’-এ প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্যাশ কালেকশন (সিসি) ঘাটতি রয়েছে। অন্যান্য হাউসে সামান্য ঘাটতির কারণে যেখানে লেনদেন স্থগিতসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেখানে ইমনের হাউসের ক্ষেত্রে রহস্যজনক কারণে সবাই নীরব রয়েছে। এছাড়া জিএম ও সিওও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সহায়তায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
ইনসাইডার ট্রেডিং ও ম্যানিপুলেশন: ডিএসইর ভেতরের সংবেদনশীল তথ্য অপব্যবহার করে শেয়ার ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি পর্ষদ পদের প্রভাব খাটিয়ে আইপিও (IPO) শেয়ারের সিন্ডিকেট তৈরি এবং বাজারে কৃত্রিম কারসাজির সঙ্গে তিনি জড়িত।
সন্দেহজনক ক্রয় প্রস্তাব: ইনফোটেক থেকে ৭০ কোটি টাকায় ম্যাচিং ইঞ্জিন ক্রয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্নীতির নকশা প্রণয়ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ নিয়োগ: নিয়মনীতি ও শর্টলিস্টে নাম না থাকা সত্ত্বেও আসিফুর রহমান চৌধুরীকে ডিএসইর সিএইচও/সিটিও পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতে, শেয়ারবাজারের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির দায়ে মিনহাজ মান্নান ইমনকে দ্রুত কঠোর জবাবদিহিতা ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা না হলে বাজারের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন