বাংলার জবান
জাতীয়

ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

7 November 2026, 4:54 AM Tariqul দেখা হয়েছে: 7
ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ • 7 November 2026, 4:54 AM

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন।


৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।


রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার চক্রান্ত করা হয়েছে, ভূলুণ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্র এবং জনগণের ওপর চেপে বসেছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবারও গণতন্ত্রের সুবাতাস পেতে শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য।


১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। তাবেদারি অপশাসন, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী চক্রান্তের কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ নিজ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সেদিন সব চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে জনগণের ভালোবাসায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়।


তিনি আরও বলেন, সিপাহি-জনতার সেই ঐতিহাসিক সংহতির চেতনা নতুন করে পুনর্জাগরিত হয়েছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-জনতা ও সশস্ত্র বাহিনীর অভূতপূর্ব ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে এবং দেশ তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।


রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বের হয়ে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ভিত্তিতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন।


জাতীয় সংকট সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় সংসদকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বাণীতে স্পষ্ট করেন—৭ নভেম্বরের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। যেখানে সাম্য, ন্যায্যতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।